Home Politics বাবুলের পথে আর কে কে, ঘুম ছুটেছে পদ্মের

বাবুলের পথে আর কে কে, ঘুম ছুটেছে পদ্মের

SHARE

১৮ই সেপ্টেম্বর ২০২১, ওয়েভ ইন্ডিয়া বাংলা , ওয়েব ডেস্ক :-‘আবকে বার ২০০ পার’, শ্লোগান উঠেছিল ঠিকই। কিন্তু দৌড় থেমেছিল ১০০’র অনেক আগেই। একুশের বিধানসভা নির্বাচনে ৭৭ আসন নিয়েই মুখ থুবড়ে পড়তে হয়েছে পদ্ম শিবিরকে। কিন্তু ভয়টা ধরেছিল তার পরে পরেই। দলের বিধায়ক থেকে সাংসদরা যোগাযোগ শুরু করেছেন তৃণমূলের সঙ্গে। ৩১জন বিধায়ক আর ১২জন সাংসদ যোগাযোগ শুরু করেছেন তৃণমূলের সঙ্গে। এমনতাই খবর ছড়িয়ে পড়েছিল বঙ্গ বিজেপির অন্দরের পাশাপাশি রাজ্য রাজনীতির আঙ্গিনাতেও। সেই খবর যে ভুয়ো ছিল না সেটা সময়ই বলে দিচ্ছে। মুকুল রায় এসেছেন, বিশ্বজিৎ দাস এসেছেন, তন্ময় ঘোষ এসেছেন, সৌমেন রায় এসেছেন। এদিন এলেন বাবুল। প্রথম চারজন বিধায়ক হলেও বাবুল সাংসদ। স্বাভাবিক ভাবেই এখন পদ্ম শিবিরে ঘুম ছুটিয়ে একটাই প্রশ্ন দাপিয়ে বেড়াচ্ছে লাইনে আর কে কে আছে? সেই তালিকা করতে বসে এখন বিজেপির নেতারাই কেঁদে ভাসাচ্ছেন। কেননা কারোর ওপরেই আর তাঁদের নেই কোনও ভরসা। সকলেই সন্দেহের তালিকায়, তা সে বিধায়ক হোক কী সাংসদ!

তৃণমূলের দাবি বাবুলের পরে আরও অন্তত ২৫জন বিধায়ক আর ৭জন সাংসদ আছেন লাইনে যারা বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিতে চলেছেন। সেই যোগদান কবে হবে তা নিয়ে তৃণমূলের কেউই মুখ খুলতে রাজি নন। তবে সূত্রে জানা গিয়েছে ওই ২৫জন বিধায়কের মধ্যে ১১জন উত্তরবঙ্গের বিধায়ক। সেই উত্তরবঙ্গ যাকে বাংলা থেকে ভেঙে পৃথক রাজ্য গড়ার ষড়যন্ত্র শুরু করেছে গেরুয়া শিবির। অর্থাৎ উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জের বিধায়ক সৌমেন রায় গেরুয়া শিবিরের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে দল ছেড়ে যে দরজা খুলে দিয়েছেন সেই দরজা দিয়েই আগামী দিনে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে আসতে চলেছেন ১১জন বিধায়ক যারা বাংলা ভাগের গৈরিক ষড়যন্ত্রে বিশ্বাস রাখেননি। উত্তরবঙ্গের ৮টি জেলায় রয়েছে ৫৪টি বিধানসভা আসন যার মধ্যে বিজেপি একুশের বিধানসভা নির্বাচনে ৩০টি আসনে জয়ী হয়েছে। যদিও পরে একটি আসন থেকে পদত্যাগ করেছেন নিশীথ আধিকারী। আবার সৌমেন চলে এসেছেন তৃণমূলে আর সেটা বিধায়ক পদে ইস্তফা না দিয়েই। সেই হিসাবে উত্তরবঙ্গে এখন বিজেপির বিধায়ক রয়েছেন ২৮জন। কিন্তু এদের মধ্যেই যদি ১১জন আগামী দিনে তৃণমূলের পথে পা বাড়ান তাহলে হাতে থাকলো কী? অন্তত নৈতিক ক্ষেত্রে!

দক্ষিনবঙ্গেও বিজেপির ভবিষ্যত নয় খুব উজ্জ্বল। একুশের নির্বাচনে বিজেপির পাওয়া ৭৭টি আসনের মধ্যে ৪৭টি আসন এসেছে দক্ষিনবঙ্গের একাধিক জেলা থেকে। কিন্তু সেই ৪৭জন বিধায়কের মধ্যে জগন্নাথ সরকার আগেই ইস্তফা দিয়েছেন আর ৩জন বিধায়ক চলে এসেছেন তৃণমূলে। সেই হিসাবে দক্ষিনবঙ্গে এখন বিজেপির বিধায়কের সংখ্যা ৪৩। এর মধ্যে আবার শোনা যাচ্ছে ১৪জন বিধায়ক যে কোনও দিন চলে আসতে পারেন তৃণমূলে। সেই ১৪জন কে কে তার একটা আভাস বিজেপি পেয়েছে ঠিকই, কিন্তু হাতে নেই পোক্ত প্রমাণ। তাই সরাসরি কারোর বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপও নিতে পারছে না। আর সেটাই এখন দলের অন্দরে অবিশ্বাসের বাতাবরণকে তুঙ্গে নিয়ে গিয়েছে। কার্যত বঙ্গ বিজেপির অন্দরে এখন কাউন্টডাউন চলছে এই ২৫জন বিধায়ক কখন দলবদল করেন তা জানতে। দলের সেই উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে উত্তরবঙ্গের ১ ও দক্ষিনবঙ্গের ৬জন সাংসদ জার্সি বদল করতে পারেন এই খবরে। কেননা বাবুল বার বার বলেছিলেন তিনি তৃণমূলে যাচ্ছেন না। তারপরেও এদিন তিনি তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। সেই পথ ধরে আগামী দিনে দলের আরও ৭জন সাংসদ পা বাড়াতে পারেন তৃণমূলে। মুখে যে যাই বলুক, যতই বলুক, ‘বিজেপিতে আছি, বিজেপিতেই থাকবো’, ভরসা আর কাউকেই নেই। নিজের ছায়াকেও নয়।

 

SHARE

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here