Home GENERAL এবার বড় দুর্গার বরাত নেই, কদর কমছে শোলাশিল্পীদের

এবার বড় দুর্গার বরাত নেই, কদর কমছে শোলাশিল্পীদের

SHARE

২২শে সেপ্টেম্বর ২০২১, ওয়েভ ইন্ডিয়া বাংলা , ওয়েব ডেস্ক :-দুর্গাপুজোর কয়েক মাস আগে থেকেই শোলা দিয়ে মালা, মুকুট সহ প্রতিমার অঙ্গসজ্জার নানা গয়না তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে গোটা পাড়া। শোলার তৈরি ডাকের সাজ বানাতে পরিবারের সকল সদস্যের দম ফেলার ফুরসত থাকে না। কিন্তু, করোনার জেরে সেই চেনা ছবি গতবছর থেকে উধাও হয়ে গিয়েছে দিনহাটার ভেটাগুড়ির শোলাগ্রাম বলে পরিচিত মালাকার পাড়ার। এরউপর এবারও বড় মাপের প্রতিমার অর্ডার সেই অর্থে আসেনি মৃৎশিল্পীদের কাছে। তাই সেখান থেকে শোলাশিল্পীদের কাছে শোলার অঙ্গসজ্জার বরাত আসছে না।

শোলা জলাশয়ে হয়। মূলত বর্ষাকালে এই শোলা জলাশয় থেকে সংগ্রহ করে তা শুকিয়ে পরবর্তীতে শিল্পকর্ম করা হয়। কিন্তু, এখন গ্রামের অধিকাংশ জলাশয় ভরাট হয়ে গিয়েছে। জলের অভাবে শোলা ঠিকমতো হচ্ছে না। পূর্বপুরুষের পেশাকে বাঁচিয়ে রাখতে বেশিরভাগই অসম থেকে শোলা আনছেন। ফলে এর খরচ বেশি পড়ে যাচ্ছে। স্থানীয় এক শিল্পী লক্ষ্মণ মালাকার, আনিল মালাকার প্রমুখ বলেন, এখন আর শোলার কাজের বাজার নেই। অথচ এই অঞ্চলে একসময় ঘরে ঘরে শোলার কাজ হতো। এখন আর এই কাজ করে সংসার চলে না। তাই অনেকের মধ্যে হতাশা তৈরি হচ্ছে। এই পেশা অনেকে ছেড়ে দিয়েছেন। এই শিল্পের জন্য সরকারি সাহায্য মেলে না। শোলাশিল্পীদের জন্য সরকারের ঋণের ব্যবস্থা করে পাশে দাঁড়ানো উচিত। স্থানীয় এক শোলাশিল্পী বলেন, শোলা না পেয়ে থার্মোকলের ভরসা করতে হয়েছে। যদিও থার্মোকলের চাহিদা কম। প্রতিবারই পুজোর সময় এসব বানিয়ে হাজার দশেক টাকা আয় হয়। এবার যা পরিস্থিতি, তাতে ভালো রোজগার হওয়ার কোনও আশা আর দেখছি না। কোচবিহার শহর থেকে ১৮ কিমি দূরে ভেটাগুড়ির গ্রামে দু’শোর বেশি মালাকার পরিবার রয়েছে। অধিকাংশই বংশপরম্পরায় শোলা দিয়ে তৈরি বিভিন্ন পুজোয় ব্যবহৃত দেবদেবীর রংবেরঙের মালা, ফুল, অলঙ্কার সহ নানা উপকরণ তৈরি করে। এখন কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় খরচ বেড়েছে কয়েকগুণ। তাছাড়া শোলার তৈরি ডাকের সাজের গয়নার দাম বেড়ে যাওয়ায় পুজো কমিটিগুলিরও চাহিদা এতে কমে গিয়েছে। আর তাই শোলার বদলে এখন থার্মোকল দিয়ে তৈরি হচ্ছে মুকুট, মালা সহ অন্যান্য অলঙ্কার। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ভেটাগুড়ির মালাকার পাড়ার শিল্পীরা থার্মোকল দিয়েই মালা, মুকুটের পাশাপাশি প্রতিমার অঙ্গসজ্জার নানা ধরনের ডিজাইনের গয়না তৈরি করছেন। সারাবছরই শোলা দিয়ে হাতের কাজ তৈরি করেন এই শিল্পীরা। পুজোর সময়ে চাহিদা বেশি থাকাতে আয় বেশি হয়। তবে করোনা কোপ ও থার্মোকল, এই দুইয়ের জাঁতাকলে পড়ে বিপাকে পড়েছেন শোলাশিল্পীরা। তাঁদের সামনে ঘনিয়ে এসেছে অন্ধকার।

SHARE

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here