Home GENERAL পুজোয় শাড়ি তৈরির অর্ডার নেই, ভাতার দাবি দুর্গাপুর-ফরিদপুরের তাঁতশিল্পীদের

পুজোয় শাড়ি তৈরির অর্ডার নেই, ভাতার দাবি দুর্গাপুর-ফরিদপুরের তাঁতশিল্পীদের

SHARE

৯ই আগস্ট ২০২১, ওয়েভ ইন্ডিয়া বাংলা , ওয়েব ডেস্ক :- পুজোর মরশুমে মেলেনি শাড়ি তৈরির বরাত। হতাশায় ভুগছেন দুর্গাপুর-ফরিদপুর ব্লকের তাঁতশিল্পীরা। শাড়ি তৈরির কাঁচামালও অমিল। এই পরিস্থিতিতে তাঁরা সরকারি ভাতার দাবি জানিয়েছেন। ব্লক প্রশাসন জানিয়েছে, তাঁতশিল্পীরা আবেদন জমা দিলে দ্রুত তাঁদের শিল্পীভাতার ব্যবস্থা করা হবে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই ব্লকের গৌরবাজার তাঁতিপাড়া এলাকায় প্রায় ১০০টি তাঁতশিল্পী পরিবারের বাস। কয়েকশো বছর ধরে বংশপরম্পরায় তাঁরা এই শিল্প বাঁচিয়ে রেখে জীবন ও জীবিকা চালিয়ে আসছেন। যদিও তাঁদের দাবি, আধুনিক মেশিনে শাড়ি তৈরি হওয়ায় হাতে বোনা মাকুর যন্ত্রে শাড়ি বোনার ঐতিহ্য প্রায় লুপ্ত হতে বসেছে। তাই বর্তমান প্রজন্ম পারিবারিক পেশা থেকে মুখ ফিরিয়ে অন্য পেশায় যোগ দিচ্ছে। চলতি বছরে করোনার দাপটে এলাকার তাঁতশিল্পীদের অস্তিত্ব বিপন্ন। ফের কবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছন্দে ফিরবে, তা নিয়ে অনিশ্চিত শিল্পীরা। এলাকার তাঁতশিল্পী বলরাম দালাল বলেন, এই এলাকার তাঁতশিল্প প্রায় বিলুপ্তির মুখে। গ্রামের প্রায় একশোর অধিক পরিবার এই পেশার উপর নির্ভরশীল ছিল। এক সময় পুজোর মরশুমে প্রায় ৬ মাস আগে থেকেই দিনরাত মাকুর যন্ত্রের খটাখট শব্দে গমগম করত গ্রাম। এখানে তৈরি তাঁতের ও তসরের শাড়ির চাহিদা ছিল রাজ্যজুড়ে। এছাড়াও গামছার চাহিদা ছিল সারা বছর। কিন্তু আধুনিক মেশিনে তৈরি তাঁত সহ রকমারি শাড়ি বাজারে সস্তা দরে চলে আসায় আমাদের কদর কমেছে। বাজারে চাহিদা না থাকায় রোজগারও কমেছে। অধিকাংশ পরিবার পারিবারিক পেশা বদলে ফেলে। বর্তমানে প্রায় ২০টি পরিবার এই পেশার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। করোনার দাপটে এই শিল্পের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা দুষ্কর হয়ে উঠেছে। বিহার ও ওড়িশা থেকে কাঁচামাল এনে শাড়ি, গামছা তৈরি করতাম। করোনার জন্য কাঁচামালের অভাব দেখা দিয়েছে। বর্ধমান,  বাঁকুড়া সহ আশপাশের জেলার মহাজনরা আমাদের কাছ থেকে প্রতিবছর শাড়ি নিয়ে যেত। তাঁরা শাড়ি তৈরির জন্য অগ্রিম অর্থ দিতেন। কিন্তু এই বছর কোনও বরাত মেলেনি। স্বাভাবিকভাবে পুজোর মরশুমে আমরা হতাশায় ভুগছি। রোজগার একেবারেই বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এই মূহূর্তে সরকারি ভাতা মিললে আমরা উপকৃত হতাম। এক মহিলা শিল্পী বলেন, এই পেশার সঙ্গে বাড়ির মহিলারাও যুক্ত। শাড়ি বুনে আমরাও সংসারের খরচটুকু যোগাতাম। কিন্তু করোনা পরিস্থিতি সেটুকুও বন্ধ করে দিয়েছে।

গৌরবাজার গ্রাম পঞ্চায়েতের উপ প্রধান হরেন কুমার পাল বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে এলাকার তাঁতশিল্পে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। তাঁতিদের বাড়ি বাড়ি ঘুরে পরিস্থিতির কথা জেনেছি। রাজ্য সরকারের শিল্পীভাতার আওতায় শিল্পীদের আনার চেষ্টা করছি। দুর্গাপুর-ফরিদপুর ব্লকের বিডিও মৃণালকান্তি বাগচী বলেন, শিল্পীরা আবেদন করলে তাঁদের জন্য দ্রত ভাতার ব্যাবস্থা করা হবে।

SHARE

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here