Home GENERAL মালদহের হস্তশিল্পে কদর কমছে, সঙ্কটে পাখা শিল্পীরা

মালদহের হস্তশিল্পে কদর কমছে, সঙ্কটে পাখা শিল্পীরা

SHARE

৮ই জুন ২০২১, ওয়েভ ইন্ডিয়া বাংলা , ওয়েব ডেস্ক :-করোনা পরিস্থিতিতে বেশিরভাগ উৎপাদন শিল্পে মন্দা চলছে। বড় শিল্পের পাশাপাশি কুটির শিল্পেও নেমে এসেছে অন্ধকার। তার প্রভাব পড়েছে মালদহের হস্তশিল্পে। এমনিতেই তালপাতার তৈরি হাতপাখার কদর দিনদিন কমছে। করোনা ও কঠোর আত্মশাসনের জেরে বর্তমানে শিল্প কার্যত লাটে উঠতে বসেছে। ইংলিশবাজার ব্লকের কোতোয়ালি অঞ্চলের টিপাজানি এলাকার পাখা শিল্পীরা বর্তমানে চরম আর্থিক কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। শিল্পীদের মধ্যে রুমা বিবি, মাজেরা খাতুন বলেন, বর্তমানে প্রত্যন্ত গ্রামেও বিদ্যুৎ পৌঁছে গিয়েছে। বর্তমান সরকারের আমলে লোডশেডিং কার্যত হয় না বললেই চলে। ফলে হাতপাখার কদর তেমন নেই। তবে জামাইষষ্ঠীর আগে অনেকে পাখা কেনেন। এই সময় নকশাযুক্ত রং বেরঙের তালপাতার পাখা বিক্রি হয়। কিন্তু গত বছরে লকডাউনের জেরে বিক্রি পুরোপুরি বন্ধ ছিল। এবার কঠোর আত্মশাসনের জেরে আমরা পসরা নিয়ে বের হতে পারছি না। ঋণ নিয়ে আমরা পাখা তৈরি করেছি। বর্তমানে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছি। ঋণের কিস্তির টাকা জোগার করতে পারছি না। সরকার বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা করলে ভালো হয়।

ইংলিশবাজারের বিডিও সৌগত চৌধুরী বলেন, হস্তশিল্পের প্রসারে রাজ্য সরকার একাধিক প্রকল্প চালু করেছে। দুঃস্থ শিল্পীদেরও সাহায্য করা হয়। পাখা শিল্পীদের জন্য সরকারি প্রকল্পের সুবিধা প্রদান করা যায় কিনা দেখব। শিল্পীরা প্রয়োজনে বিডিও অফিসে যোগাযোগ করতে পারেন। উল্লেখ্য, একসময় তালপাতার পাখা বাঙালির দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিল। সাহিত্যেও হাতপাখার কথা বারবার উঠে এসেছে। উষ্ণ খাবার ঠান্ডা করা থেকে গ্রীষ্মের ভ্যাপসা গরমে ক্ষণিকের আরাম পেতে তালপাতার পাখা ছিল বাঙালির প্রধান ভরসা। পরে অবশ্য বৈদ্যুতিক পাখা সেই জায়গা নেয়। কিন্তু লোডশেডিংয়ের সময় হাতপাখার কোনও বিকল্প ছিল না। তৃণমূল জামানায় রাজ্যে বিদ্যুৎ বিভ্রাট হয় বললেই চলে। ফলে তালপাতার পাখাও দিনদিন কার্যত বিলুপ্তির পথে পা বাড়িয়েছে। শিল্পীরা জানিয়েছেন, বিভিন্ন লৌকিক আচার-অনুষ্ঠান ও উৎসবে তালপাতার পাখার প্রয়োজন হয়। তারজন্য অনেকে তা কেনেন। ১৫-৩০ টাকা দরে পাখা বিক্রি হয়। বিভিন্ন মেলায় পাখার পসরা নিয়ে শিল্পীরা বসেন। গ্রামে গ্রামে গিয়েও পাখা বিক্রি হয়। করোনা পরিস্থিতিতে বর্তমানে মেলা হয় না। গ্রামে ফেরি করাও বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে শিল্পীদের বাড়িতে হাতপাখার পাহাড় জমছে। সেইসঙ্গে তাঁদের দুঃশ্চিন্তাও বাড়ছে। শিল্প ছেড়ে অনেকে দিনমজুরি করার কথাও ভাবছেন।

 

SHARE

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here