Home GENERAL শিল্পের দেবতার আরাধনার আগে ত্রিফলায় বিদ্ধ দুর্গাপুরের মৃৎশিল্পীরা

শিল্পের দেবতার আরাধনার আগে ত্রিফলায় বিদ্ধ দুর্গাপুরের মৃৎশিল্পীরা

SHARE

১৫ই সেপ্টেম্বর ২০২১, ওয়েভ ইন্ডিয়া বাংলা , ওয়েব ডেস্ক :-একে করোনা পরিস্থিতি, তার উপর দোসর নিম্নচাপের বৃষ্টি। শেষ মুহূর্তে কোনওরকমে ফায়ার গানের সাহায্যে প্রতিমা শুকানোর কাজেও নাভিশ্বাস তুলছে গ্যাসের অগ্নিমূল্য। করোনা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জিনিসপত্রের অগ্নিমূল্যের ত্রিফলায় বিদ্ধ মৃৎশিল্পীরা। বিশ্বকর্মা পুজোর আগে কার্যত মরার উপর খাঁড়ার ঘায়ের মতোই অবস্থা দুর্গাপুরের মৃৎশিল্পীদের। হাতে আর সময় নেই। তাই আদৌ অর্ডার নেওয়া প্রতিমা ডেলিভারি দিতে পারবেন কি না তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রাতের ঘুম উবেছে শিল্পীদের। এছাড়া এই পরিস্থিতিতে বরাত পাওয়া প্রতিমার বাইরে আগের মতো ঠাকুর বিক্রি হবে কিনা তা নিয়েও সংশয়ে রয়েছেন তাঁরা। কারণ দীর্ঘ দেড় বছর করোনা পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক পরিকাঠামো ভেঙে পড়েছে। তাই সকলে পুজোর আয়োজন করবেন কিনা তার ঠিক নেই। এছাড়া প্রতিমা তৈরির মাটি সহ বিভিন্ন সরঞ্জামের দামও চড়া। এই অবস্থায় লোকসানের আশঙ্কায় ভুগছেন মৃৎশিল্পীরা। দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলে বিশ্বকর্মা পুজো ঘিরে আলাদা উন্মাদনা থাকে। সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে ছোট বড় প্রায় ১০০টি কলকারখানা আছে। এছাড়াও গাড়ি মেরামতির প্রায় এক হাজারের বেশি গ্যারেজ রয়েছে। ওইসব কলকারখানা ও গ্যারেজগুলিতে বিশ্বকর্মা পুজো মহাসমারোহে পালন করা হয়। শহরবাসীর দাবি, বিশ্বকর্মা পুজোর দিনটি শিল্পাঞ্চলের জন্মদিন হিসেবে পালিত হয়। প্রায় এক হাজার বিশ্বকর্মা পুজো হয় শহরে। দুর্গাপুজোর আগেই ছোট বড় মিলিয়ে হাজারের বেশি বিশ্বকর্মা ঠাকুর তৈরি করতে কালঘাম ছোটে শহরের মৃৎশিল্পীদের।

শহরে প্রায় ১০০ জন মৃৎশিল্পী রয়েছে। সকলেই বিশ্বকর্মা ঠাকুর তৈরি করেন। কিন্তু এবছর করোনার তৃতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কায় আদৌ পুজো হবে কিনা তা নিয়ে সংশয়ে ছিলেন সকলেই। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে থাকায় অনেকটা দেরিতে প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু করেন শিল্পীরা। কিন্তু দু’দিন ধরে নিম্নচাপের বৃষ্টিতে ঠাকুর শুকাতে বিপাকে পড়েছেন শিল্পীরা। রোদ না থাকায় রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করে ফায়ার গানের মাধ্যমে ঠাকুর শুকানোর কাজ চলছে। শিল্পীদের দাবি, রাতদিন এক করে গ্যাসের আগুনেই শুকাতে হচ্ছে। কিন্তু চড়া দাম দিয়ে গ্যাস সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে। মৃৎশিল্পী জয়ন্ত পাল বলেন, ৫০টি বিশ্বকর্মা ঠাকুরের মাটি এখনও কাঁচা রয়েছে। এরই মধ্যে হঠাৎ নিম্নচাপ হওয়ায় সমস্যায় পড়েছি। হাতে মাত্র দু’দিন সময় রয়েছে। ফায়ার গান দিয়ে রাতদিন শুকানোর কাজ চলছে। মাটি শুকানোর পরে ঠাকুরের গায়ে রং দিয়ে আবার আগুন দিয়ে শুকাতে হবে। এই পরিস্থিতিতে বর্তমানে ৯১১ টাকার সিলিন্ডার ২০০টাকা বেশি দিয়ে কিনতে হচ্ছে। অনেকগুলি গ্যাস সিলিন্ডার কিনতে হবে। মাটি, খড়, বাঁশ ও সুতলি সহ ঠাকুরের গয়নার দামও বেড়েছে। তার উপর করোনা আবহে উদ্যোক্তারা ঠাকুরের সঠিক দাম দিতে চাইছেন না। তাই খরচ উঠবে কি না তা নিয়েই চিন্তিত।

অপর এক মৃৎশিল্পী জানান, বিশ্বকর্মা ঠাকুরের কাঠামোতে মাটি দেওয়ার কাজ চলছে। গ্যাসের আগুন ব্যবহার করে ঠাকুর সম্পূর্ণ করতে হবে। গ্যাস সিলিন্ডারের দামও আকাশছোঁয়া। করোনার জন্য বাজারের অবস্থা এমনিতেই খুব খারাপ। অন্য বছরের তুলনায় ঠাকুর কম বানিয়েছি। তার উপর দুর্যোগের জেরে কতটা ঠাকুর বিক্রি করতে পারব তা নিয়েই চিন্তায় রয়েছি। এদিকে এই অবস্থায় মৃৎশিল্পীদের পাশে দাঁড়িয়ে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে কেন্দ্রকে আক্রমণ করেছে তৃণমূল। দুর্গাপুর শহরের তৃণমূলের কনভেনার মৃগেন্দ্রনাথ পাল বলেন, মৃৎশিল্পীদের জন্য আমরাও সমব্যথি। কেন্দ্রীয় সরকার গ্যাস সিলিন্ডারের মূল্যবৃদ্ধি করার জন্য সমস্ত স্তরের মানুষ বিপাকে পড়েছে।

 

 

SHARE

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here