Home Bollywood প্রয়াত দিলীপ কুমার

প্রয়াত দিলীপ কুমার

SHARE

৭ইজুলাই ২০২১, ওয়েভ ইন্ডিয়া বাংলা, ওয়েব ডেস্কজীবনের রঙ্গমঞ্চ থেকে চিরবিদায় নিলেন কিংবদন্তী অভিনেতা দিলীপ কুমার। বুধবার সকাল সাড়ে ৭টা নাগাদ তাঁর মৃত্যু হয়। বলিউডের কিংবদন্তি এই অভিনেতা দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন। মুম্বইয়ের পিডি হিন্দুজা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। সেখানেই প্রয়াত হয়েছেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৮ বছর। প্রয়াণের সময় দিলীপ কুমারের স্ত্রী সায়রা বানু তাঁর পাশে ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁর মৃত্যুতে বলিউড সহ দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর প্রয়াণে শোকজ্ঞাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি টুইট করেছেন বলিউডের কিংবদন্তি এই অভিনেতাকে নিয়ে।

ব্রিটিশ শাসিত ভারতের পেশওয়ারের (বর্তমান পাকিস্তান) খাওয়ানি বাজার অঞ্চলে আয়েশা বেগম এবং লালা গুলাম সারওয়ার খানের সংসারে জন্ম মহম্মদ ইউসুফ খানের। জন্ম পেশওয়ারে হলেও, ইউসুফ খানের পড়াশোনা নাসিকের বারনেস স্কুলে। ছোটবেলার সঙ্গী ছিলেন আরও এক কিংবদন্তী অভিনেতা রাজ কাপুর। পরবর্তী সময়ে এই দুই নাম হিন্দি চলচ্চিত্র জগতে রাজত্ব করেছে। দিলীপ কুমার-কে অবশ্য বম্বে টকিজ-এর ডাকসাইটে অভিনেত্রী দেবিকা রানির আবিষ্কার বলাই শ্রেয়। বলা ভালো তিনিই তো এক লাজুক পাঠান যুবকের মধ্যে অফুরান সম্ভাবনা দেখেছিলেন। রাজ কাপুর, দেব আনন্দের সমসাময়িক হয়েও নিজের জন্যে এক অনন্য রাজ্যপাট তৈরি করেছিলেন দিলীপ কুমার। তাঁর অভিনয় কোনও বাধাধরা গতে আটকে পড়েনি।

দিলীপ কুমারকেই প্রথম খান হিসেবে চিহ্নিত করা হয় যিনি অভিনয় জগতকে মেথড অ্যাকটিংয়ের সঙ্গে পরিচিতি করান। এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ফিল্মফেয়ার পুরস্কার পাওয়ার রেকর্ড তাঁরই রয়েছে। মোট ৮ বার ফিল্মফেয়ারের তরফে তাঁকে শ্রেষ্ঠ অভিনেতার পুরস্কার দেওয়া হয়। দীর্ঘ অভিনয় জীবনে একাধিক পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছেন দিলীপ কুমার। তবে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অবশ্যই দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার (১৯৯৪), পদ্মভূষণ (১৯৯১), পদ্মবিভূষণ (২০১৫) এবং নিশান-ই-ইমতিয়াজ (১৯৯৮)। ১৯৪৪ সালে ‘জোয়ার ভাটা’ সিনেমার হাত ধরে বলিউডে পা রাখেন দিলীপ কুমার। পাঁচ দশকেরও বেশি দীর্ঘ কেরিয়ারে ৬৫টিরও বেশি সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। ১৯৪৪ সালে ‘জোয়ার ভাটা’ সিনেমার হাত ধরে বলিউডে পা রাখেন দিলীপ কুমার। পাঁচ দশকেরও বেশি দীর্ঘ কেরিয়ারে ৬৫টিরও বেশি সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। তাঁর উল্লেখযোগ্য ছবিগুলির মধ্যে অন্যতম ‘আন্দাজ’, ‘মুঘল-এ-আজম’, ‘গঙ্গা যমুনা’, ‘দেবদাস’। ১৯৭৬ সালে সেলুলয়েড থেকে পাঁচ বছরের বিরতি নেন দিলীপ কুমার। ১৯৮১ সালে ‘ক্রান্তি’ সিনেমার হাত ধরে কামব্যাক করেন তিনি। সিনেমা বিশেষজ্ঞরা অবশ্য দিলীপ কুমারকে ট্র্যাজেডি কিং-এর খেতাব দিয়েছিলেন। জুগনু, দিদার কিংবা দেবদাসের মতো যুগান্তকারি ছবিগুলিতে সর্বহারা প্রেমিকের চরিত্রে মানুষের মনে যে অনুভূতি তৈরি করতে তিনি সক্ষম হয়েছিলেন, এই খেতাব খানিক তারই জন্য।

 

 

SHARE

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here