Home GENERAL অসময়ের ফুলকপি চাষে ঝুঁকছেন আরামবাগের চাষিরা, লাভের আশা

অসময়ের ফুলকপি চাষে ঝুঁকছেন আরামবাগের চাষিরা, লাভের আশা

SHARE

৯ই আগস্ট ২০২১, ওয়েভ ইন্ডিয়া বাংলা , ওয়েব ডেস্ক :-শীতকাল আসতে এখনও দেরি আছে। কিন্তু দুর্গাপুজোর ভোগের খিচুড়িতে খাদ্য রসিক বাঙালির পাতে ফুলকপি থাকবে না, তা ভাবাই যায় না। তাই শরতেই নদীর পাড়ে উর্বর জমিতে ফুলকপি চাষে ব্যস্ত আরামবাগের সব্জি চাষিদের একাংশ। অসময়ে এই চাষে ভালোই লাভের মুখ দেখছেন তাঁরা। আরামবাগ মহকুমা কৃষি আধিকারিক (প্রশাসন) সজল কুমার ঘোষ বলেন, মূলত এই সময়ে বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো রয়েছে। সেই কারণে এখন খোলাবাজারে ফুলকপির চাহিদাও বেশ ভালো। অসময়ের ফুলকপি হওয়ায় চাষিরা এতে ভালো দাম পান। তাই আগের তুলনায় মহকুমা বিভিন্ন এলাকায় শরৎকালে ফুলকপি চাষের দিকে ঝুঁকছেন সব্জি চাষিরা। তবে এই সময় চাষের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সার প্রয়োগ করা অত্যন্ত জরুরি। কোন সার কীভাবে প্রয়োগ করতে হবে, তা নিয়ে দপ্তরের পক্ষ থেকেও কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

কৃষি দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, আরামবাগ মহকুমার ছটি ব্লকেই এখন কম-বেশি ফুলকপি চাষ হচ্ছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে আরামবাগের মানিকপাট, সালেপুর, ডহরকুণ্ড, পুরশুড়া, সোদপুর, গোঘাট, পশ্চিমপাড়া, বদনগঞ্জ ও খানাকুলের বেশ কিছু এলাকায় এই চাষ হচ্ছে। মানিকপাট এলাকার দামোদর নদের পূর্ব পাড়ে বাঁধের জমিতে ফুলকপি চাষ করেছেন উত্তম মালিক, দীপক সাঁতরা। তাঁরা বলেন, ভাদ্র মাসের শেষে ফুলকপি চারা গাছ জমিতে বসানো হয়েছিল। কার্তিক মাসের শুরুতে এই ফুলকপির জমি থেকে তোলা হবে। তারপর তা কলকাতা সহ রাজ্যের বিভিন্ন বাজারে রপ্তানি করব। বাজারে এর চাহিদাও এখন বেশ ভালো রয়েছে। তাই চাহিদা অনুযায়ী ফুলকপি বিক্রি করে লাভ বেশ ভালোই থাকবে। তবে মাঝেমধ্যেই বৃষ্টির কারণে চাষের কাজে সমস্যা হচ্ছে।

জানা গিয়েছে, এক বিঘা জমিতে সার, চারা গাছ, জমি তৈরির জন্য খেত মজুরের পারিশ্রমিক মিলিয়ে ফুলকপি চাষে খরচ হয় প্রায় ন’হাজার টাকা। প্রতি বিঘা জমিতে প্রায় পাঁচ হাজার চারা গাছ বসানো যায়। এক একটি চারা গাছের দাম এবছর এক টাকা ৪০ পয়সা। পরবর্তীকালে ওই চারা থেকে ৭০০-৮০০ গ্রাম ওজনের ফুলকপি পাওয়া যায়। পাইকারি বাজারে তা ৮-১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হবে। কৃষি দপ্তরের কর্তারা বলেন, অসময়ের এই চাষে ডিওপি, পটাশ, ইউরিয়া, ম্যাগফ্যাট, গোমর ইত্যাদি সার ব্যবহার করাটা বাধ্যতামূলক। এছাড়া জল দাঁড়াতে পারে না এমন পলিমাটি ফুলকপি চাষের জন্য শ্রেয়। যেহেতু শীতের সময় বিভিন্ন রকম সব্জি চাষ হয়, তাই ওই সময়ে চাষের জমি তৈরি ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য দক্ষ খেতমজুরের চাহিদাও বেশি থাকে। কিন্তু বর্ষার পরবর্তী সময়ে উল্লেখযোগ্যভাবে সব্জি চাষ হয় না। তাই এখন খেতমজুতদের সামান্য পারিশ্রমিকের বিনিময়ে ফুলকপি চাষের জমিতে কাজে লাগানো যায়। সেই কারণে খরচের তুলনায় এই সময়ে ফুলকপি চাষ লাভজনক।

 

SHARE

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here