Home GENERAL সাহায্যের আবেদন কর্তৃপক্ষের অনাথ আশ্রমের শিশুদের দু’বেলা জুটছে না খাবার

সাহায্যের আবেদন কর্তৃপক্ষের অনাথ আশ্রমের শিশুদের দু’বেলা জুটছে না খাবার

SHARE

৪ অক্টোবর ২০২১, ওয়েভ ইন্ডিয়া বাংলা , ওয়েব ডেস্ক :-  গৃহস্থের ছোটো ছোটো ছেলেমেয়েরা পুজোয় নতুন জামা কাপড় পরে দেদার উল্লাস করে। আতশবাজি ফাটায়, হই হুল্লোড়ে মেতে থাকে।  কিন্তু ‘বিকাহার ইমানুল আশ্রম’ এর ছেলেমেয়েরা ফ্যাল ফ্যাল করে দেখে। কারণ তারা ‘অনাথ’। তাদের ঠিকানা অনাথ আশ্রম।  নতুন জামা, আতসবাজি ফাটানো, হৈ–হুল্লোড় তাদের কাছে দিবাস্বপ্ন। কারণ। দু’‌বেলা পেটপুড়ে খেতেই যে তাদের যুজতে হচ্ছে অনিশ্চয়তা, অনটনের সঙ্গে।কুসুম্বা গ্রাম রামপুরহাটে। সেই গ্রামেই রয়েছে ‘বিকাহার ইমানুল আশ্রম’। এই আশ্রম এক এক করে এখন ষাটটি অনাথ শিশুর ঠিকানা হয়ে উঠেছে। এদের কারও বাবা নেই। কারও আবার মা–বাবা কেউই নেই। অসহায়তার থাবার গ্রাসে বিধ্বস্থ শিশুদের কোলাহলেই দিন থেকে রাত হয় এই আশ্রমের। কিন্তু ভবিষ্যত কি–এক বড় প্রশ্নচিহ্নের মুখোমুখি আজ কুসুম্বার অনাথ শিশুদের ঠিকানা। কারণ আর্থিক সঙ্কট। ষাটটি শিশুর দু’‌বেলা খাবার জোগানোই দিন দিন দায় হয়ে উঠেছে।

২০০৯ সালে উত্তর দিনাজপুরের এক সহৃদয় ব্যক্তি গদাধর বর্মন ও জিম বর্মন এই অনাথ আশ্রমের সূচনা করেন রামপুরহাটের প্রত্যন্ত গ্রামে। নাম দেন বিকাহার ইমানুল আশ্রম। সেখানেই এক এক করে বীরভূম, ঝাড়খণ্ডের অনাথ শিশুদের ঠাঁই হতে শুরু হয়।  ৬০ জন শিশুর ঠাঁই হয় বীরভূমের রামপুরহাটের কুসুমবা গ্রামের একটি অনাথ আশ্রমে। বিভিন্ন সহৃদয় ব্যক্তির সাহায্যে এই আশ্রমে শিশুরা দু’‌বেলা খেতে পরতে পেতেন। এই আশ্রম মূলত দেখভাল করতেন জিম বর্মন। কিন্তু করোনা আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়। এরপর থেকেই চরম অভাব অনটনে চলছে অনাথ আশ্রম। একে করোনা অতিমারির প্রকোপ। তার উপরে আশ্রম পরিচালকের মৃত্যুতে চরম আর্থিক অনটন শুরু হয়। এই খবর জানার পর থেকেই  তারাপীঠ মন্দিরের পুরোহিত সুপ্রকাশ চক্রবর্তী শিশুদের পাশে থাকার উদ্যোগ নেন।

তারাপীঠে পুজো দিতে আসেন যারা অনাথ আশ্রমের শিশুদের কথা শুনে অনেকেই ওই আশ্রমে গিয়ে খাবার দিয়ে আসতেন। কেউ টাকা দিয়ে আসতেন। কিন্তু করোনা কালে দীর্ঘদিন বন্ধ তারাপীঠ মন্দির। ফলে তীর্থ যাত্রীদের আসা যাওয়া বন্ধ। ফলে এক প্রকার আধ পেটা খেয়ে দিন কাটছে শিশুদের। বর্তমানে ঐ গ্রামের গৃহবধূ কাবেরী মাল অনাথ শিশুদের বুকে আগলে রেখেছেন। তিনি দু’‌বেলা শাক ভাত যা জুটছে তাই রান্না করে শিশুদের মুখে তুলে দিচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘‌লকডাউনের আগে এই আশ্রমকে আর্থিকভাবে অনুদান দিতেন গুজরাটের এক ব্যবসায়ী। তিনি এক বছর হল মারা গেছেন। ওই গুজরাটি পরিবার থেকে এখন আশ্রমের এক ছেলে বা মেয়ের জন্য মাসে ৫ টাকা অনুদান পাঠায়। সেই অর্থে কতটুকু হয়। তাই আমাদের কাতর আবেদন সরকারি অনুদান দিয়ে আমাদের অনাথ ছেলে মেয়েদের বাঁচান। ওরা আধ পেটা খেয়ে বেঁচে আছে।’‌

SHARE

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here