Home EDUCATION & CAREER শিক্ষক দিবসে বাটি হাতে হাওড়ার রাস্তায় শিক্ষকরা

শিক্ষক দিবসে বাটি হাতে হাওড়ার রাস্তায় শিক্ষকরা

SHARE

৬ই সেপ্টেম্বর ২০২১, ওয়েভ ইন্ডিয়া বাংলা , ওয়েব ডেস্ক :-রবিবার ছিল দেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ডঃ সর্বপল্লি রাধাকৃষ্ণণের জন্মদিন। আর তাঁর সম্মানেই এই দিনটি প্রতিবছর দেশে শিক্ষক দিবস হিসাবেই পালিত হয়। আর এদিনেই কিনা সরকারি স্কুলের কয়েকজন অস্থায়ী শিক্ষক বাটি হাতে নেমে পড়েন ভিক্ষা করতে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা ঘটেছে হাওড়া স্টেশন এলাকায়। হাতে ভিক্ষার বাটি থাকলেও এই শিক্ষকদের মুখের বুলি ছিল, ‘দিদি আমাদের বাঁচান। আমরা বাঁচতে চাই। আমাদের বেতন নেই।’ ঘটনাচক্রে এদিন সকালেই রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড় দেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতিকে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে রাজ্য সরকারকে খোঁচা দিয়ে বলেছেন, ‘পার্শ্বশিক্ষক ও চুক্তিভিত্তিক শিক্ষকদের উপর অবিচার বন্ধ হওয়ার সময় এসেছে।’ রাজ্যপালের এই বিতর্কিত মন্তব্য নিয়ে তৃণমূল বা রাজ্য সরকারের তরফে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। তবে এদিনের দুটি ঘটনাই যে রাজ্য সরকারকে অস্বস্তিতে ফেলতেই করা হয়েছে তা মোটামুটি পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে সকলের কাছে।

এদিন হাওড়া স্টেশন এলাকার কলকাতাগামী বাসস্ট্যান্ডের সামনে ৬ নম্বর সাবওয়ের গেটে এন এস কিউ এফ শিক্ষকরা হাতে থালা-বাটি নিয়ে বিক্ষোভ দেখান। ন্যাশনাল স্কিল কোয়ালিফিকেশন ফ্রেমওয়ার্কের অধীনে থাকা এই কারিগরি শিক্ষকরা জানিয়েছেন, তাঁরা সরকারি নিয়ম মেনে নিয়োগ হলেও বেসরকারি সংস্থার অধীনে কাজ করেন। তাঁদের মাসিক বেতন অত্যন্ত কম এবং অনিয়মিত। নিয়োগকারী বেসরকারি সংস্থা তাঁদের ওপর ভীষণই মানসিক অত্যাচার চালায় এবং যখন তখন চাকরি থেকে বসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। গোটা রাজ্যে তাঁদের মতন প্রায় পনেরশো এনএসকিউএফ শিক্ষক আছেন এবং প্রায় ২০০ জন ল্যাবরেটরি অ্যাসিস্ট্যান্ট আছেন। কিন্তু তাঁদের চাকরিতে কোনও নিরাপত্তা নেই। বেতন নেই। তার ফলে তাঁদের কাছে বিকল্প হিসেবে অন্য কোনও কাজ জানা না থাকায় ভিক্ষাবৃত্তি ছাড়া কিছু উপায়ও নেই। তাঁরা তাই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য এই পথ বেছে নিয়েছেন। তাঁদের আর্তি, ‘দিদি আমাদের বাঁচান।’

কিন্তু শিক্ষক দিবসের দিন বাটি হাতে ভিক্ষা করলে কী সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে? এদিন যারা এই বিক্ষোভ দেখেছেন তাঁদের অনেকেরই অভিমত, ‘আর্তি হলে তবু কথা ছিল, শিক্ষক দিবসের দিন এনারা যা করলেন, তা এক কথায় শিক্ষকদের জন্য, জাতির জন্য লজ্জা।’ বিক্ষোভকারী শিক্ষকেরা অবশ্য সেসব কিছু শুনতে চান না। তাঁদের দাবি, দিনের পর দিন ধরে তাঁরা সম্পূর্ণ বেতন পাচ্ছেন না বলেই এদিন তাঁরা বাটি হাতে বাস স্ট্যান্ডে আসতে বাধ্য হয়েছেন। পূর্ণ সময়ের শিক্ষকরা যেখানে সম্পূর্ণ বেতন পাচ্ছেন, সেখানে তাঁরা অস্থায়ী হওয়ায় তাঁদের বেতন কেটে নেওয়া হচ্ছে। অথচ তাঁরা সরকারি স্কুলেই পড়ান। এখন ভিক্ষাবৃত্তি ছাড়া তাঁদের অন্য কোনও উপায় নেই।

 

SHARE

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here