Home Trending স্মার্ট সাট্টা খেলে সর্বস্বান্ত যুবকরা , অশান্তি বাড়ছে দুর্গাপুর জুড়ে

স্মার্ট সাট্টা খেলে সর্বস্বান্ত যুবকরা , অশান্তি বাড়ছে দুর্গাপুর জুড়ে

SHARE

২৬শে আগস্ট ২০২১, ওয়েভ ইন্ডিয়া বাংলা , ওয়েব ডেস্ক :-তাস পিটিয়ে, চড়কাতে গুটি ছুড়ে অথবা অনলাইনে লোটো খেলার মতো জুয়া, সাট্টা এখন অতীত। দুর্গাপুরের খনি অঞ্চলে প্রায় দশ গুণ লাভের টোপ দিয়ে যুব সমাজ থেকে দিনমজুরদের ‘স্মার্ট সাট্টা’-য় নামাচ্ছে চক্রের পাণ্ডারা। মোবাইলের হোয়াটস অ্যাপে নম্বর বুক করে টাকা বাজি রেখে দেদার চলছে স্মার্ট সাট্টা। পুরস্কারের টাকা বিজেতাদের ‘গুগল পে’ অথবা ‘ফোন পে’-এর মতো অ্যাপে দেওয়া হচ্ছে। পুলিসের চোখে ধুলো দিতে ব্যবহার করা হচ্ছে সাঙ্কেতিক ভাষাও। এলাকাবাসীর অভিযোগ, পুলিসের নজর এড়িয়ে স্মার্ট সাট্টা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে খনি অঞ্চলে। ফলে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন এলাকার যুব সমাজ থেকে দিনমজুর। এমনকী সাট্টায় টাকা খুইয়ে অধিকাংশ পরিবারে বাধছে অশান্তিও। আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিস কমিশনারেটের ডিসি(পূর্ব) অভিষেক গুপ্তা বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, খনি অঞ্চলে তাস ও জুয়ার বোর্ডে গুটি চেলে বা অনলাইন লোটোর মাধ্যমে জুয়া, সাট্টা খেলা হতো। লাগাতার পুলিসি অভিযানে তা এখন বন্ধের মুখে। কিন্তু করোনা আবহে প্রথম লকডাউনে শুরু হয় স্মার্ট সাট্টা। গোপনীয়তা থাকায় অনায়াসে অণ্ডাল থেকে পাণ্ডবেশ্বর, উখড়া, কাজোড়া, হরিপুর সহ একাধিক এলাকায় তা দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়ে। নাম প্রাকাশ্যে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক জুয়াড়ি বলেন, স্মার্ট সাট্টা খেলায় ০ থেকে ৯ পর্যন্ত সংখ্যা ব্যবহার হয়। ওই সংখ্যার মধ্যেই পুরস্কার দেওয়া হয়। খেলার গোপনীয়তার স্বার্থে অভিনব পদ্ধতিতে সংখ্যাগুলির সাংকেতিক নামকরণ করা হয়েছে। এখানে শূন্যকে (০)বলা হয় ‘লাড্ডু’। ১ হল ‘চোখ’। ২-এর সাংকেতিক চিহ্ন ‘হাঁসছা’ অর্থাৎ হাঁসের বাচ্চা। ৩ হল ‘বেলপাতা’। এরকমই ৮ সংখ্যাকে বলা হয় ‘চশমা’ ও ‘মাথাভারী’ হল ৯-এর সাংকেতিক চিহ্ন।

জানা গিয়েছে, চক্রের মূল পাণ্ডাদের অধীনে একএকটি এলাকায় সাট্টা খেলানোর এজেন্ট রয়েছে। এজেন্টদের হয়ে ছোট ছোট এলাকায় কাজ করে বুকি অর্থাৎ যারা খেলার বুকিং করে। এইরকম একাধিক বুকি প্রতিটি এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। যারা সাট্টা খেলে বা টাকা বাজি রাখে, তাদের বলা হয় খেলোয়াড়। মূলত এজেন্টরা লোকালয়ে এই খেলা নিয়ন্ত্রণ করে। মাত্র ১২ টাকা দিয়ে জুয়াড়িরা নিজের পছন্দ মতো একটি নম্বর বুক করে। যদি সে জেতে, তবে ১২ টাকার বিনিময়ে ১০০ টাকা পুরস্কার পায়। মাত্র ১২ টাকা বলে একজন বিভিন্ন সংখ্যা একাধিকবার হোয়াটস অ্যাপের মাধ্যমে বুকিং করে। যাদের হোয়াটস অ্যাপ নেই বা ডিজিটাল মাধ্যমে টাকা দেওয়ার ব্যবস্থা নেই, তাদের কাছ থেকে নগদেও টাকা নেওয়া হয়। তারা জিতলে নগদ টাকা পুরস্কার দেওয়া হয়। এই সাট্টা হয় একটি জনপ্রিয় সংস্থার লটারির প্রথম পুরস্কারের নম্বরের উপর ভিত্তি করে। প্রথম পুরস্কারপ্রাপ্ত সংখ্যার শেষ সংখ্যাটি ধরে বিজেতা নির্ণয় করা হয়। প্রতিদিন তিনবার করে ওই সংস্থার লটারি খেলা হয়। সেই মতো খনি অঞ্চলেও দিনে তিনবার সাট্টা খেলা হয়। বহু দিনমজুর ও যুবক এই সাট্টা খেলায় মজেছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। প্রতিদিন খনি অঞ্চল থেকে লক্ষ লক্ষ টাকার সাট্টা খেলা চলছে বলে তাঁদের দাবি।

 

 

SHARE

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here