Home GENERAL বিশ্বভারতী মামলায় অসন্তোষ প্রকাশ কলকাতা হাইকোর্টের

বিশ্বভারতী মামলায় অসন্তোষ প্রকাশ কলকাতা হাইকোর্টের

SHARE

১৫ই সেপ্টেম্বর ২০২১, ওয়েভ ইন্ডিয়া বাংলা , ওয়েব ডেস্ক :-বিশ্বভারতীর অশান্তি কাটাতে কর্তৃপক্ষ ও পড়ুয়া, দু’পক্ষকেই উদ্যোগী হওয়ার নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট ৷ বুধবার বিচারপতি রাজশেখর মান্থা সাফ জানিয়েছেন, কবিগুরুর স্মৃতিবিজড়িত বিশ্বভারতীতে বর্তমানে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তার দায় কোনও পক্ষই অস্বীকার করতে পারে না ৷ বিচারপতি মান্থার অভিমত, উপাচার্য এবং প্রশাসনিক কর্তাদের আরও অনেক নমনীয়ভাবে ছাত্র-ছাত্রীদের কথা শুনতে হবে ৷ তাঁদের সমস্যা মেটানোর চেষ্টা করতে হবে ৷ পাশাপাশি, বহিষ্কৃত তিন পড়ুয়াকে যাতে অবিলম্বে ক্লাসে ফেরানো হয়, এবং তাঁরা যাতে বকেয়া পরীক্ষা দিতে পারেন, বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষকে সেই ব্যবস্থা করারও নির্দেশ দেন বিচারপতি ৷ একইসঙ্গে বহিষ্কৃত অধ্যাপকদেরও কাজে ফেরানোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি ৷ আদালয়ের এই রায়ে খুশি আন্দোলনরত পড়ুয়ারা ৷

তিন পড়ুয়াকে তিন বছরের জন্য বহিষ্কারের প্রতিবাদে গত ২৭ অগস্ট থেকে আন্দোলন শুরু করেন বিশ্বভারতীর ছাত্রছাত্রীদের একাংশ ৷ দিনের পর দিন উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীকে তাঁর বাসভবনেই কার্যত বন্দি রাখেন তাঁরা ৷ ক্লাসে ফেরানোর দাবিতে অনশন শুরু করেন বহিষ্কৃত এক ছাত্রী ৷ তাঁর সঙ্গে এক অধ্যাপকও অনশনে যোগ দেন ৷ অন্যদিকে, উপাচার্যের বাড়ির বাইরে সশস্ত্র পুলিশি নিরাপত্তা মোতায়েনের নির্দেশ দেয় কলকাতা হাইকোর্ট ৷ বুধবার সেই নিরাপত্তা তুলে নেওয়ার নির্দেশ দেন বিচারপতি মান্থা ৷ বৃহস্পতিবারের মধ্যেই এই নিরাপত্তা তুলে নিতে হবে পুলিশ প্রশাসনকে ৷ একইসঙ্গে আদালতের পর্যবেক্ষণ, বিশ্বভারতীতে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা একেবারেই অনভিপ্রেত ৷ আর তার জন্য কর্তৃপক্ষ যতটা দায়ী, ততটাই দায়ী আন্দোলনরত পড়ুয়ারা ৷ কারণ, বহু মানুষই নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে ছাত্রছাত্রীদের আন্দোলনে এসে যোগদান করছেন ৷ বহিরাগতদের এই আচরণ ভালোভাবে নেয়নি আদালত ৷ বদলে পড়ুয়াদের পঠনপাঠনে মন দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিচারপতি ৷

আদালতের এদিনের নির্দেশে সামগ্রিকভাবে খুশি বিশ্বভারতীর পড়ুয়ারা ৷ তবে, কয়েকটি ক্ষেত্রে আদালতের পর্যবেক্ষণের সঙ্গে সহমত হতে পারেননি আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীরা ৷ প্রসঙ্গত, যে তিনজন পড়ুয়াকে তিন বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছিল, তাঁরা হলেন, ফাল্গুনী পান, সোমনাথ সাউ এবং রূপা চক্রবর্তী ৷ এদিন আদালতের রায় সম্পর্কে ফাল্গুনী বলেন, “আদালতের নির্দেশে আমরা খুশি ৷ তবে আমাদের আন্দোলন জারি থাকবে ৷ কারণ, শুধুমাত্র বহিষ্কৃত পড়ুয়া ও অধ্যাপকদের ফেরানোই আমাদের আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল না ৷ আমাদের অন্যতম দাবি ছিল, উপাচার্যের পদত্যাগ ৷” অর্থাৎ, উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীকে সরানোর দাবি থেকে তাঁরা যে একচুলও সরছেন না, সেকথা স্পষ্ট ৷ পাশাপাশি, পড়ুয়াদের আন্দোলনে ‘বহিরাগত’রা যোগ দিচ্ছেন বলে আদালত অসন্তোষ প্রকাশ করলেও আন্দোলনকারীরা তা মানতে নারাজ ৷ তাঁদের পাল্টা যুক্তি, “বিশ্বভারতীর সঙ্গে বহু মানুষ ওতপ্রোতভাবে ভাবে যুক্ত রয়েছেন ৷ তাই বহিরাগত তত্ত্ব এখানে অপ্রাসঙ্গিক ৷”

 

 

 

 

SHARE

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here