Home GENERAL মালদায় গঙ্গার গ্রাসে ৪০০ বাড়ি

মালদায় গঙ্গার গ্রাসে ৪০০ বাড়ি

SHARE

১৫ই সেপ্টেম্বর ২০২১, ওয়েভ ইন্ডিয়া বাংলা , ওয়েব ডেস্ক :-ধর্ম কিংবা শিক্ষা, গঙ্গার তাণ্ডব থেকে রক্ষা পায়নি কিছুই। রাক্ষুসী নদীর গর্ভে তলিয়ে যেতে বসেছে মন্দির-মসজিদ-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তলিয়ে গিয়েছে ৪০০ বাড়ি ৷ পূণ্যতোয়ার ছোবলে ঘর ছেড়ে পাশাপাশি আশ্রয়ে রাম-রহিম। কালিয়াচক ৩ নম্বর ব্লকের বীরনগর ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের সরকারটোলা, মহেন্দ্রটোলা, ভীমাগ্রামের মানুষ এখন শঙ্কায়। কখন যে রাক্ষসী ফের চেরা জিভ বের করে সবকিছু তার পেটে ঢুকিয়ে নেবে, কেউ বুঝতে পারছেন না। বিপন্ন মানুষের এখন একটাই আর্তি, তাঁদের মাথা গোঁজার ব্যবস্থা করুক প্রশাসন। কিন্তু প্রশাসনের কর্তারা এখনও বিপন্নদের সঙ্গে দেখা করতে যাননি বলে অভিযোগ। তাই দুর্গতরা নিজেদের দাবি জানাতে পারছেন না। যদিও ব্লক প্রশাসন জানিয়েছে, গোটা ঘটনায় নজর রাখা হয়েছে। প্রশাসনিক পদক্ষেপ করা হয়েছে।

গঙ্গার জলস্তর এখন নিম্নমুখী। এই জেলার নদীপাড়ের মানুষ জানেন, নদীর জল বাড়া ও কমার সময় ভাঙন হয়। জল কমার সময় ভাঙনের তীব্রতা থাকে সবচেয়ে বেশি। সেটাই হয়েছে গত রবিবার। ২৪.৩০ মিটার উচ্চতায় থেকে মঙ্গলবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দফায় দফায় পাড়ে ছোবল মেরেছে গঙ্গা। সরকারটোলা ও মহেন্দ্রটোলায় তলিয়ে গিয়েছে প্রায় ৪০০ বাড়ি। এলাকার একমাত্র গার্লস স্কুলের একাংশ নদীর উপর ঝুলছে। যে কোনও মুহূর্তে তিনতলা স্কুলবাড়ি পুরোটাই নদীতে তলিয়ে যেতে পারে। রবিবার সকাল থেকে টানা পাঁচঘণ্টা সরকারটোলায় তাণ্ডব চালানোর পর রাতে ভীমাগ্রামে হামলা চালায় নদী। সেখানেও প্রায় ৭০ টি বাড়ি নদীতে তলিয়ে যায়। পরদিন থেকে দুই এলাকায় ভারি হাতুড়ির শব্দ। বেঁচেবর্তে থাকা নদীপাড়ের বাড়িগুলি ভেঙে ফেলা হচ্ছে। ইট-কাঠ কোথায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে তা সবার অজানা। আপাতত অস্থায়ীভাবে অন্য কারওর জায়গায় সেসব রাখা হচ্ছে।

পাড়ে ছোবল মারার সময় গঙ্গা ধর্ম দেখেনি। তার তাণ্ডবে ভীমাগ্রামের মজসিদের নীচ দিয়ে বইছে নদীর জল। হাটখোলায় থাকা প্রাচীন শিবমন্দির ধ্বংসের প্রহর গুণছে। গঙ্গার ছোবলে এক হয়ে গিয়েছে রাম-রহিম। একে অন্যকে এখন বাঁচার রাস্তা দেখাচ্ছেন। তেমনটাই বলছিলেন ভীমাগ্রাম হাটখোলার বাসিন্দা দীপন মণ্ডল। তিনি বলেন, “আমার ৩৪ বছর বয়স হল। আমার পরিবার অন্তত ৭০ বছর ধরে এখানে বসবাস করছে। ছোটোবেলায় দেখেছি, দুটো বাঁধ পার করে গঙ্গায় যেতে হয়। বাড়ি থেকে গঙ্গা যেতে ১০-১৫ মিনিট হাঁটতে হত। এবার সেই গঙ্গায় আমাদের বাড়ি পড়ে গেল। ভাঙনে বাড়ির আর অস্তিত্ব নেই। রবিবার রাতে এখানের প্রায় ৭০ টি বাড়ি নদীতে তলিয়ে গিয়েছে। বীরনগরের অবস্থা আরও খারাপ। সেখানে ৪০০ টির বেশি বাড়ি গতকাল তলিয়ে গিয়েছে। আমাদের গ্রামে প্রাচীন শিবমন্দিরের পাশ দিয়ে এখন গঙ্গা বইছে।

গঙ্গা যদি চায়, তবে মন্দির বাঁচবে। নয়তো সেটাও নদীতে তলিয়ে যাবে। গ্রামের মসজিদ গঙ্গার উপর ঝুলছে। গঙ্গা আর ধর্ম দেখেনি। মন্দির-মসজিদ তার কাছে এক। আমরা সরকারি কোনও সহায়তা এখনও পাইনি। সেই সাহায্যের দাবি জানাচ্ছি।” সরকারটোলা গ্রামে নদীপাড়ে দাঁড়িয়ে বীরনগর গার্লস হাইস্কুলের দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলেন সাফিকুল আলম । যেন হিসাব কষছিলেন, আর কতটা সময় পেরোলে তিনতলা স্কুলবাড়িটা নদীতে আশ্রয় নেবে। তিনি বলেন, “ভাঙনের পরিস্থিতি ভয়াবহ। নদীর পাড়ে গার্লস স্কুল। গঙ্গা সেটাকেও ছাড়েনি। স্কুলের বাথরুম নদীতে পড়ে গিয়েছে। স্কুল থেকে জিনিসপত্র বের করার চেষ্টা চলছে। মঙ্গলবার লিশ প্রশাসনের তরফে এলাকায় মাইকিং করে সবাইকে সতর্ক হয়েছে। স্কুলের ওপারে মহেন্দ্রটোলায় অন্তত ৪০০ বাড়ি তলিয়ে গিয়েছে।

অনেকে ঘর থেকে কুটোটুকুও বের করার সময় পাননি। বুধবারও গঙ্গা অল্পবিস্তর পাড় ভাঙছে। এই স্কুল বাঁচানো আর সম্ভব নয়। এভাবে ভাঙন হলে এলাকার বাজারটাই নদীতে চলে যাবে। মঙ্গলবার বৈষ্ণবনগর থানার আইসি এলাকায় এলেও আজ কাউকে দেখা যায়নি। এই ভাঙন রোধ করতে হলে সরকারকেই কাজ করতে হবে। বোল্ডার পাইলিং বা প্রোকোপাইন পদ্ধতি ব্যবহার করা হলে ভাঙন কিছুটা ঠেকানো যেতে পারে।”

SHARE

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here