Home Home নাবালিকা মেয়েকে বিয়ে করতে এসে ফিল্মি কায়দায় পালালো বর

নাবালিকা মেয়েকে বিয়ে করতে এসে ফিল্মি কায়দায় পালালো বর

SHARE

২২শে জুলাই, উত্তর চব্বিশ পরগনা, ওয়েব ডেস্ক :- হাসনাবাদ থানার চিমটি গ্রামের কাছারি পাড়ায় নাবালিকা মেয়েকে বিয়ে করতে এসে পালিয়ে গেল বর। গত রবিবার খবর যায় চাইল্ড লাইন ও হাসনাবাদ প্রশাসনের কাছে। যে নাবালিকা মেয়েটির বিয়ে হচ্ছে তার নাম রুপা খাতুন বয়স মাত্র ১৭ বছর, দশম শ্রেণীর ছাত্রী। বিয়েতে নিমন্ত্রিত মানুষজন এমনকি বরযাত্রী বর নিয়ে হাজির বিয়ে বাড়িতে, তার পর মোয়াজ্জেম সাহেব রেজিস্ট্রি ফর্মে বরকে সই ও টিপ সই করিয়েও ফেলেছে।

হঠাৎ পুলিশ প্রশাসনকে দেখে বিয়ে বাড়িতে শোরগোল পড়ে যায়। কেউ বুঝে ওঠার আগে হাসনাবাদ বিডিও অফিসের কন্যাশ্রী দপ্তরের অফিসার প্রণব মুখার্জি জানতে চায় মেয়ের বাবার কাছে বিয়ে দিচ্ছেন মেয়ের বয়স কত? অফিসারকে এক ঘন্টা বসিয়ে রাখে বয়সের প্রমান পত্র দেখাচ্ছি বলে। প্রমান পত্র দেখাবার পর, প্রণব বাবু বলেন এই বিয়ে বন্ধ করুন। তারপর শুরু হয়ে যায় গন্ডগোল। বরকে নিয়ে বরের বাড়ির লোকজন ফিল্মি কায়দায় কাঁধে তুলে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে হৈই চৈই পড়ে যায় গ্রামবাসীদের মধ্যে। বর ও বরের আত্মীয় স্বজনদের ধরে ফেলে হাসনাবাদ থানার পুলিশ।

পরবর্তীকালে বিয়ে বাড়ির অনুষ্ঠানটা এমন একটা জায়গায় পৌঁছায় যে পুনরায় আরও পুলিশ বাহিনী চেয়ে ফোন করেন বিডিও সাহেবকে কন্যাশ্রী প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা প্রণববাবু। নানা ঘাত-প্রতিঘাতের মাধ্যম দিয়ে চলতে থাকে আলাপ-আলোচনা। শেষমেষ পৌঁছায় একটি জায়গায়। নাবালিকার বয়স ১৮ বছর হলেই বিয়ে দেব, এই সিদ্ধান্ত জানায় পাত্রীর বাবা দুখে মোল্লা। তিনি কাগজে লিখে এবং কথাও দিলেন প্রশাসনের কাছে। তারপর পাত্রকে জিজ্ঞাসা করতেই পাত্র বলে, আমি আত্মহত্যা করব এই বিয়ে না হলে। প্রশাসনের তরফ থেকে গ্রামবাসীদের উদ্দেশ্যে বলা হয়, যারা ১৮ বছরের নীচে মেয়েদেরকে বিয়ে দেবে সেই নাবালিকা মেয়েদেরকে আমরা হোমে পাঠাবার ব‍্যবস্তা করব। আর যে ছেলেরা ওই নাবালিকাকে বিয়ে করতে আসবে তাদেরকে প্রশাসনের হাতে তুলে দেওয়া হবে।

SHARE

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here